বৃহস্পতিবার ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬: চূড়ান্ত পর্যায়ে কলম্বিয়ার উদ্ধার অভিযান

আরিফুর রহমান আরিফ   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   0 বার পঠিত

নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬: চূড়ান্ত পর্যায়ে কলম্বিয়ার উদ্ধার অভিযান

লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।

বুধবার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, উদ্ধার অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

উদ্ধারকারীরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ সময় পেরিয়ে গেলেও জীবিত উদ্ধারের নজির রয়েছে।

কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছি। এর অর্থ এই নয় যে এরপর আর কোনো জীবিত মানুষকে পাওয়া যাবে না, তবে তখন তা আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কফি উৎপাদন অঞ্চলের কেন্দ্র পেরেইরায় ৮৩ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির ধ্বংসস্তূপে রাস্তার বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিশেষ সরঞ্জামে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর তাঁর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্বজনদের দাবি, উদ্ধারকারীরা শব্দ করতে বললে ভেতর থেকে সাড়া পাওয়া গেছে।

কালিতেও তৃতীয় রাতের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। খালি হাতের পাশাপাশি ক্রেন, সেন্সর ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচের শব্দ শনাক্ত করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব রাখা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী জোহানা সানচেজ বলেন, প্রতি আধা ঘণ্টায় সবাইকে নীরব থাকতে বলা হচ্ছে, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের কোনো সংকেত পাওয়া যায় কি না, তা শোনা যায়। এ পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত এবং তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

কালির তোরেস দেল লিমোনা আবাসিক কমপ্লেক্সেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। সৈন্য, সরকারি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

দুর্গত এলাকায় সাধারণ মানুষও সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বড় পরীক্ষা

মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েয়ার জন্য এই ভূমিকম্প বড় ধরনের প্রশাসনিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ব্যয় কমানো ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি।

তাঁর সরকার রাষ্ট্রের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই ইউনিটই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক তিজিয়ানো ব্রেদার মতে, এই ভূমিকম্পই নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বড় পরীক্ষা। ফলে মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিক থেকেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কলম্বিয়ার নতুন সরকার।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা

Facebook Comments Box

Posted ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

brahmanbaria2usa.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আরিফুর রহমান আরিফ

ARIFUR RAHMAN ARIF ( + 1 203-727-4273)

প্রধান সম্পাদক : হাকিকুল ইসলাম খোকন
সহসম্পাদক : মিম রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : সঞ্জিব ভট্টাচার্য
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর অঞ্চল : আলহাজ্ব জায়দুল কবির ভাঙ্গী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মিনহাজুল আবেদীন পলাশ
বার্তা সম্পাদক : মোহাম্মদ দুলাল মিয়া